Marriage age BD

বাংলাদেশে বিয়ের নূন্যতম বয়স কত? আইন, বিশেষ বিধান ও শাস্তির বিস্তারিত

বিবাহ একটি সামাজিক ও ধর্মীয় বন্ধন। এছাড়া বিবাহ একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি চুক্তিও বটে। সমাজে বাল্যবিবাহ রোধ এবং সুন্দর একটি পারিবারিক অবকাঠামো তৈরি করার জন্য বাংলাদেশ সরকার বিয়ের নূন্যতম বয়স নির্ধারণ করেছে ।

বিডি ল হাবের এই আর্টিকেলে আজকে আমরা আলোচনা করব বিয়ের আইনি বয়স, বাল্যবিবাহের শাস্তি অথবা কোর্ট ম্যারেজ করার নিয়ম সম্পর্কে।

আজকে আমরা জানব বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭  অনুযায়ী বাংলাদেশে বিয়ের নূন্যতম বয়স কত? যদি কেউ এই আইনের বিধান ভঙ্গ করে তাহলে তার কি সাজা হবে?

আইন অনুযায়ী মেয়েদের এবং ছেলেদের বিয়ের নুন্যতম বয়স

বাংলাদেশে বিবাহের আইনি বয়স নির্ধারিত হয় বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ (Child Marriage Restraint Act, 2017) দ্বারা।

এই আইন অনুযায়ী:

ছেলেদের বিয়ের নূন্যতম বয়স: ২১ বছর।

মেয়েদের বিয়ের নূন্যতম বয়স: ১৮ বছর।

বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী, বিয়ের সময় যদি ছেলের বয়স ২১ বছরের কম অথবা মেয়ের বয়স ১৮ বছরের কম হয়, তবে সেই বিয়েটি “বাল্যবিবাহ” হিসেবে গণ্য হবে। আইন অনুযায়ী এটি একটি দণ্ডনীয় অপরাধ।

বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭-এর বিশেষ বিধান

অনেকেই জানতে চান, কোনভাবে ১৮ বছরের নিচে মেয়েদের বিয়ে দেওয়া যাবে কি না? ২০১৭ সালের এই আইনে একটি বিশেষ বিধান বা ধারা ১৯ যুক্ত করা হয়েছে, যাতে বয়স না হলেও কিভাবে বৈধভাবে বিয়ে করা যায় সে সম্পর্কে বলা আছে।

সেখানে বলা হয়েছে, বিশেষ প্রেক্ষাপটে (যেমন: অনাকাঙ্ক্ষিত প্রেগনেন্সি বা অপ্রাপ্তবয়স্কের সর্বোত্তম স্বার্থ রক্ষা করার জন্য) অপ্রাপ্তবয়স্ক কারও বিয়ে দেওয়া যেতে পারে। তবে এর জন্য অবশ্যই পিতামাতা বা অভিভাবকের সম্মতি এবং আদালতের অনুমতি প্রয়োজন হবে। আদালতের অনুমতি ছাড়া কোনোভাবেই বয়স পূর্ন না হলে বিয়ে দেওয়া বৈধ হবে না।

বাল্যবিবাহের শাস্তি ও জরিমানা

বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী বাল্যবিবাহ একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন অনুযায়ী এর শাস্তির বিধানগুলো নিচে দেয়া হলো:

প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির শাস্তি: কোনো অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি (ছেলে /মেয়ে) যদি বাল্য বিবাহ করেন, তবে তার সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ১ লক্ষ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।

অভিভাবকের শাস্তি: পিতামাতা বা অভিভাবক যদি বাল্যবিবাহের আয়োজন করেন বা সম্মতি দেন, তবে তাদেরও সর্বোচ্চ সাজা ২ বছরের কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে।

বিয়ে পড়ানোর শাস্তি: যদি কোন কাজী বা ব্যক্তি অপ্রাপ্ত বয়ষ্ক ব্যাক্তির বিয়ে পড়ান বা পরিচালনা করেন, তবে সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড অথবা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা হতে পারে।

বিয়ের বয়স কিভাবে প্রমান করবেন?

বিয়ে রেজিস্ট্রেশন বা কাবিননামা সম্পন্ন করার সময় বয়স প্রমাণের প্রয়োজন হয়। এর জন্য নিচের যেকোনো একটি বা একাধিক ডকুমেন্ট প্রদর্শন করা বাধ্যতামূলক:

১। জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)

২। জন্ম নিবন্ধন সনদ (অনলাইন ভেরিফাইড)

৩। এসএসসি (SSC) বা সমমানের পরীক্ষার সার্টিফিকেট

৪। পাসপোর্ট (যদি থাকে)

এই ডকুমেন্টস গুলোর যেকোন একটি বা একাধিক ডকুমেন্টস প্রদর্শন করে বিয়ের বয়স প্রমান করা যাবে।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

১. বাংলাদেশে কোর্ট ম্যারেজ করার নূন্যতম বয়স কত?

কোর্ট ম্যারেজ বা এফিডেভিট করে বিয়ে করার জন্যও আইনি বয়স একই। অর্থাৎ, ছেলের বয়স কমপক্ষে ২১ বছর এবং মেয়ের বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে। এর কম বয়সে কোর্ট ম্যারেজ করা আইনত বৈধ নয়।

২. বিয়ের বয়স প্রমাণের জন্য কি শুধু জন্ম নিবন্ধন হলেই চলবে?

হ্যাঁ, অনলাইন ভেরিফাইড জন্ম নিবন্ধন সনদ বয়স প্রমাণের জন্য যথেষ্ট। তবে জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বা এসএসসি পরীক্ষার সার্টিফিকেট থাকলে সেটি আরও বেশি গ্রহণযোগ্য হয়।

৩. ১৮ বছরের নিচে বিয়ে করলে কি কাবিননামা পাওয়া যায়?

না, বাংলাদেশের বর্তমান আইন অনুযায়ী কাজী কখনোই ১৮ বছরের নিচে মেয়ে বা ২১ বছরের নিচে ছেলের বিয়ের কাবিননামা বা রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন না। করলে কাজীর লাইসেন্স বাতিলসহ জেল জরিমানা হতে পারে।