বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় আইন বিষয়ক সাইটে আপনাকে স্বাগতম
বাড়ি ভাড়া আইন
বাড়ি ভাড়া আইন

বাড়ি ভাড়া আইন ২০২৬ – বাড়ি ভাড়ার নতুন নির্দেশনা ২০২৬

বাড়ি ভাড়া আইন ২০২৬ অনুযায়ী রাজধানী ঢাকার বাড়িভাড়া সংক্রান্ত নতুন নির্দেশিকা প্রণয়ন করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ। এটাতে বলা হয়েছে, প্রতি বছর হিসাবে ভাড়া বাবদ কোনো মালিক বাড়ির চলমান বাজারমূল্যের ১৫ % এর বেশি আদায় করতে পারবেন না। অগ্রিম ভাড়া হিসেবে নেওয়া যাবে ১ থেকে ৩ মাসের ভাড়া।

নতুন এই নির্দেশিকা ডিএনসিসির নগর ভবনে গত মঙ্গলবার দুপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন ঢাকা উত্তর সিটির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ। অনেকেই আশংকা করছেন এই নির্দেশিকার ফলে বাড়িভাড়া আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আবার আইনে ১ মাসের কথা বললেও বাড়ির মালিকদের ৩ মাস পর্যন্ত অগ্রিম ভাড়া নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

কি কি আছে এই নির্দেশিকায়?
নতুন এই নির্দেশিকায় ঢাকা উত্তর সিটির ১৬টি বিষয় সম্পর্কে বলা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
১. মাসের ১০ তারিখের মধ্যে ভাড়াটিয়া বাড়িওয়ালাকে ভাড়া প্রদান করবেন। বাড়িওয়ালাদের অবশ্যই প্রমাণ কপি হিসেবে ভাড়াটেকে রিসিট দিতে হবে।
২. যেকোনো সময়ে ভাড়াটিয়ার বাড়িতে প্রবেশাধিকার থাকবে। বাড়ির সার্বিক নিরাপত্তা এবং শৃঙ্খলা রক্ষার্থে বাড়িওয়ালা কোনো পদক্ষেপ গ্রহন করলে তা অবশ্যই ভাড়াটেকে অবগত করবেন এবং বাস্তবায়নের আগে সকলের মতামত নেবেন।

৩. মানসম্মত ভাড়া কার্যকর হওয়ার তারিখ থেকে ২ বছর পর্যন্ত চালু থাকবে। জুন-জুলাইয়ে বাড়িভাড়া বাড়ানো যাবে।

৪. ২ বছরের আগে কোনো ভাবেই বাড়িভাড়া বাড়ানো যাবে না। দুই বছর পর মানসম্মত ভাড়া উভয় পক্ষের আলোচনা সাপেক্ষে পরিবর্তন করা যাবে।

৫. নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভাড়াটে ভাড়া দিতে ব্যর্থ হলে বাড়িওয়ালা ভাড়াটেকে মৌখিকভাবে সতর্ক করবেন এবং নিয়মিত ভাড়া প্রদানের জন্য তাগাদা জানাবেন। এতেও কাজ না হলে বাড়িওয়ালা ভাড়াটেকে সমস্ত বকেয়া প্রদান করে দুই মাসের মধ্যে বাড়ি ছাড়ার জন্য লিখিত সতর্কতামূলক নোটিশ দেবেন। ভাড়াটের সঙ্গে আগে স্বাক্ষরিত চুক্তি বাতিল করে উচ্ছেদ করতে পারবেন।

৬. আবাসিক ভবনের ক্ষেত্রে বাড়িভাড়ার চুক্তি বাতিল করতে হলে ২ মাসের নোটিশ দিয়ে উভয় পক্ষ ভাড়া চুক্তি বাতিল করতে পারবেন।

৭. মানসম্মত ভাড়া নির্ধারণ এবং ভাড়ার বার্ষিক পরিমাণ সংশ্লিষ্ট বাড়ির বাজারমূল্যের ১৫% এর বেশি হবে না।

৮. বাড়িওয়ালার সঙ্গে লিখিত চুক্তিতে কী কী শর্তে ভাড়া দেওয়া হলো এবং করণীয় কী, সেসব সুনির্দিষ্ট করে দিতে হবে। চুক্তিপত্রে ভাড়া বাড়ানো, অগ্রিম জমা ও কখন বাড়ি ছাড়বেন, তা অবশ্যই উল্লেখ থাকতে হবে।

৯. বাড়ি ভাড়া নেওয়ার সময় ১-৩ মাসের বেশি এডভান্স ভাড়া নেওয়া যাবে না।

১০. ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় ওয়ার্ডভিত্তিক বাড়িমালিক সমিতি এবং ভাড়াটে সমিতি গঠন করতে হবে। উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা স্থানীয় ওয়ার্ড পর্যায়ে ভাড়ার যেকোন বিবাদের সালিসে থাকবেন।

১১. যেকোনো সমস্যা ওয়ার্ড/জোনভিত্তিক বাড়িওয়ালা সমিতি এবং ভাড়াটে সমিতির আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। যদি সমাধান না হয়, পরবর্তী সময়ে সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর রিপোর্ট করতে হবে।

১২. সাম্প্রতিককালে ভবনে অগ্নিকাণ্ড, ভূমিকম্প ইত্যাদি নানা ধরনের মনুষ্য সৃষ্ট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে দুর্ঘটনা বেড়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় নিরাপত্তার স্বার্থে বাড়িওয়ালা তাঁর প্রত্যেক ভাড়াটেকে ছাদের ও মূল গেটের (দরজা) চাবি শর্তসাপেক্ষে দেবেন।
সংবাদ সম্মেলনে উত্তর সিটির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ বলেন, ঢাকা মহানগরে বর্তমানে প্রায় সাড়ে তিন কোটি মানুষের বসবাস হলেও ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ মিলিয়ে মোট বাড়ির সংখ্যা ২০-২৫ লাখের বেশি নয়। ফলে শহরের একটি বড় অংশই ভাড়াটে। ১৯৯১ সালের বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন
বাস্তবায়নজনিত জটিলতা ও অস্পষ্টতা থাকায় এবং স্থানীয় সরকার পর্যায়ে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ধীরগতির হওয়ায় বারবার অতিরিক্ত হারে ভাড়া বাড়ানো হচ্ছে।