বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় আইন বিষয়ক সাইটে আপনাকে স্বাগতম
হাইকোর্ট e1738572718268

বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন: নতুন নিয়োগ বিধান ও অবসরের বয়সসীমা

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে বিচারক নিয়োগের জন্য নতুন বিধান প্রস্তাব করেছে বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রার্থীর বয়স কমপক্ষে ৪৮ বছর হতে হবে এবং তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হতে বাধ্য। এছাড়া, বিচারপতিদের অবসরের বয়সসীমা ৬৭ বছর থেকে বাড়িয়ে ৭০ বছর করার সুপারিশ করা হয়েছে।

৮ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ওয়েবসাইটে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এর আগে, ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আইন কমিশন বিচারপতিদের অবসরের বয়সসীমা ৭৫ বছর করার প্রস্তাব করেছিল, কিন্তু সেটি বাস্তবায়িত হয়নি। ১০ বছর পর এবার সংস্কার কমিশন ৭০ বছর বয়সের প্রস্তাব দিয়েছে।

নতুন নিয়োগ শর্ত

কমিশন বিচারপতি নিয়োগে ১৫ বছরের পেশাগত অভিজ্ঞতা এবং ৩ বছরের জেলা জজ হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতার শর্ত যুক্ত করার সুপারিশ করেছে। এছাড়া, হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগের জন্য প্রার্থীর বয়স কমপক্ষে ৪৮ বছর হতে হবে।

সংবিধানে সংশোধনের প্রস্তাব

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংবিধানে নতুন ৯৫(ক) অনুচ্ছেদ সংযোজনের মাধ্যমে বিচারপতি নিয়োগ কমিশন গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এটি সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগে নতুন বিধান প্রবর্তন করবে।

অবসরের বয়সসীমা

বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন ৭০ বছর বয়সে বিচারপতির অবসর নেয়ার প্রস্তাব করেছে, যা বর্তমান বিচারপতিদের জন্য প্রযোজ্য হবে না।

বয়স নির্ধারণ এবং বিচারকদের অভিজ্ঞতা

বিচার বিভাগে নতুন নিয়োগ শর্তে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগের জন্য কোনো নির্দিষ্ট বয়সের শর্ত নেই, তবে হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগে প্রার্থীর বয়স কমপক্ষে ৪৮ বছর হওয়া উচিত।

এছাড়া, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের ১৫ বছরের সক্রিয় অভিজ্ঞতা থাকতে হবে এবং ন্যূনতম তিন বছর জেলা জজ হিসেবে কাজ করতে হবে হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পেতে।

কমিশনের প্রধান ও সদস্যরা

এই কমিশনের প্রধান ছিলেন সাবেক আপিল বিভাগের বিচারপতি শাহ আবু নাঈম মোমিনুর রহমান। কমিশনের অন্য সদস্যরা ছিলেন হাইকোর্ট বিভাগের সাবেক বিচারপতি এমদাদুল হক, ফরিদ আহমেদ শিবলী, সাবেক জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ আমিনুল ইসলাম, সিনিয়র অ্যাডভোকেট তানিম হোসেইন শাওন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাজী মাহফুজুল হক সুপন এবং শিক্ষার্থী প্রতিনিধি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আরমান হোসাইন।

কমিশনের প্রতিবেদন বর্তমানে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।