আজকে আলোচনা করব কালিমা না পাঠ করে বিবাহ করা যাবে কিনা। নিয়ে অনেকেরই অনেক রকম প্রশ্ন থেকে থাকে তার ভেতরে একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হল কালিমা পাঠ না করে বিবাহ করা যাবে কিনা।
এই বিষয়টা সম্পর্কে জানতে হলে প্রথমে আমাদেরকে যে বিষয়টা জানতে হবে সেটা হলো ইসলাম অনুযায়ী বিবাহ করতে হলে কি কি শর্ত পালন করতে হয়।
বিয়ের শুদ্ধ হওয়ার কয়েকটি দিকনির্দেশনা ইসলামে বিভিন্ন হাদিসে দেওয়া রয়েছে।
হাদিস অনুযায়ী বিবাহের রোকন দুইটি।
১। প্রস্তাব- যেকোনো পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেয়া অথবা অভিভাবকের নিকট থেকে প্রস্তাব দেয়া।
২। কবুল- একপক্ষ প্রস্তাব দিলে অবশ্যই আরেক পক্ষকে সেটা গ্রহণ করতে হবে যাকে কবুল করা বলা হয়।
অর্থাৎ এক পক্ষ প্রস্তাব দেবে এবং আরেক পক্ষ যদি গ্রহণ করে তাহলে একটা বিয়ে বৈধতা পাবে।
বিস্তারিত জানতে ভিডিওটি দেখুন :
বিয়ের শর্তাবলি –
বিয়ের চারটি শর্ত রয়েছে যে শর্তগুলো পূরণ না করলে একটা বিয়েকে পরিপূর্ণ বলা চলে না।
১। স্বামী এবং স্ত্রী নির্ধারণ করা অর্থাৎ কে বর হবে এবং কে কনে হবে সেটাকে নির্ধারণ করতে হবে।
২। স্বামী এবং স্ত্রীর উভয়ের সম্মতি থাকতে হবে অর্থাৎ কাউকে জোর করে বিবাহে বাধ্য করা যাবে না। কুমারী মেয়ে চুপ থাকলে সম্মতি বলে ধরে দিতে হবে এবং অকুমারী হলে তার মৌখিক সম্মতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। পাগল বা উন্মাদ হলে এই শর্ত তার জন্য প্রযোজ্য নয়।
৩। অভিভাবকের মাধ্যমে বিয়ের চুক্তি করা। অভিভাবকের মাধ্যমে বিয়ের চুক্তি সম্পন্ন করতে হবে। অভিভাবক হিসেবে অবশ্যই বালের পুরুষ এবং তীক্ষ্ণ বুদ্ধির সম্পন্ন ব্যক্তি কে নির্ধারণ করতে হবে। পাগোল উন্মাদ বা অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি অভিভাবক হিসেবে নো করা যাবে না। বিয়ের ক্ষেত্রে পিতা সবচেয়ে যোগ্য অভিভাবক হতে পারেন।
৪। বিয়েতে সাক্ষ্য রাখা অন্যতম একটা গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। স্বাক্ষর ছাড়া কোন বিয়ে বৈধ বা সুসম্পন্ন হবে না।
বিয়ের দুটি রোকন ও চারটি শর্ত পর্যালোচনা করলে দেখা যায় এখানে কোথাও কালিমা পাঠ করার কথা বলা হয়নি। তাই আমরা বলতে পারি কালেমা পাঠ করা বিয়ের কোন রুকুন বা সত্য সময়ের মধ্যে পড়ে না এটা একটা সামাজিক কালচার হয়ে দাঁড়িয়েছে।



