তালাকের নোটিশ পাঠানোর নিয়ম অনেকেই জানেন, কিন্তু ফ্রিতে তালাকের নোটিশ কিভাবে পাঠাতে হয় এই ট্রিকস টা অনেকেরই অজানা। আজকে বিমামুল্যে কিভাবে তালাকের নোটিশ পাঠানো যায় সে বিষয়ে আলোচনা করব।
যখন একজন নারী এবং পুরুষের এক সাথে দাম্পত্য সম্পর্ক চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না তখন তারা উভয়ে অথবা যেকোন একজন সিদ্ধান্ত নেয় তালাকের। তালাক দেয়া ইসলামে অবৈধ নয় তবে আল্লাহর নিকট অপ্রিয় বৈধ একটা কাজ।
তালাকের প্রকারভেদ : ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী তালাক প্রধানত দুইভাবে দেওয়া যায়:
১. স্পষ্ট (সরাসরি) তালাক এবং
২. অন্তর্নিহিত (ইঙ্গিতপূর্ণ বা পরোক্ষ) তালাক।
স্পষ্ট তালাক :
যখন একজন স্বামী তার স্ত্রীকে সরাসরি বিশেষ কিছু শব্দ যেমন আমি তোমাকে তালাক দিলাম, তুমি তালাকপ্রাপ্ত, তোমার সাথে আমার সম্পর্ক শেষ এই ধরনের শব্দ ব্যবহার করে বললে তালাক স্পষ্টভাবেই কার্যকর হয়। এক্ষেত্রে এই তালাক রেজোভেবল (পুনরায় ফিরিয়ে আনা যায়)। তবে এটি ১ বা ২য় তালাক হতে হবে এবং স্ত্রীকে ইদ্দত কালীন সময় অর্থাৎ ৯০ দিন পার করেননি এমন হ্রতে হবে।
স্পষ্ট তালাকের জন্য নিয়ত (ইচ্ছা) থাকা জরুরী নয়। অর্থাৎ মুখে উচ্চারণ করলেই তালাক কার্যকর হয়, কারণ এই শব্দগুলো শুধু তালাকের জন্যই ব্যবহৃত হয়, অন্য কোনো উদ্দেশ্যে নয়।
অন্তর্নিহিত বা ইঙ্গিতপূর্ণ তালাক বা ইশারায় তালাক
যদি স্বামী এমন কিছু বলেন যেটা তালাক বোঝাতে পারে, যেমন: তুমি এখন আমার দায়িত্বে নেই / তুমি মুক্ত / তোমার ইচ্ছামত যাও এইসব শব্দের মাধ্যমে তালাক হতে হলে তালাকের নিয়ত থাকতে হয়। অর্থাৎ কেউ তার স্ত্রিকে তালাক দিতে চায় এমন সময় সে এই ধরনের বাক্য উচ্চারন যদি করে তাহলে সেটা তালাক বলে বিবেচির হবে। কিন্তু যদি তালাকের নিয়ত না থাকে তাহলে শুধু এই ধরনের বাক্য উচ্চারন করলে তালাক হবে না। অর্থাৎ যদি স্বামীর ইচ্ছা তালাক দেওয়ার হয়, তবে সেটি তালাক হিসেবে গৃহীত হবে। আর যদি তালাক দেওয়ার ইচ্ছা না থাকে, তবে এই কথাগুলোকে তালাক হিসেবে ধরা হবে না।
তালাকের সতর্কতা:
কেউ যদি চাপের মুখে বা অন্য কিছু করতে যেয়ে তালাক দেয়, এবং তার মূল ইচ্ছা তালাক নয়, তার পরেও তালাক কার্যকর হয়ে যেতে পারে। আদালত কেবল নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী বিষয়টি বিবেচনা করবে। তবে আল্লাহর কাছে স্বামী দায়ী থাকবেন, যদি তিনি তালাকের অপব্যবহার করেন।
বিনামূল্যে তালাকের উপায় এবং তালাকের নোটিশ লিখার উপায়
ইসলামী শরীয়া মতে কেউ তার স্ত্রীকে তালাক দেয়ার পর তার স্ত্রীকে এই তালাকের বিষয়ে অবগত করে তালাকের নোটিশ পাঠাতে হবে। এই নোটিশ পাঠানোর নিয়ম না রষ্ট্রীয় আইন। মুসলিম পারিবারিক অধ্যাদেশ ১৯৬১ এর ৭ ধারা মতে স্ত্রীকে মুখে তালাক দেয়ার পর তালাকের নোটিশ পাঠানো বাধ্যতামূলক। যদি কেউ স্ত্রীকে তালাক দেয়ার পর তালাকের নোটিশ না পাঠায় তাহলে তার সর্বোচ্চ ১ বছরের কারাদণ্ড, এবং দশ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।
তালাকের নোটিশ পাঠাতে কত টাকা লাগে সেটা অনেকেই জানতে চান। কিন্তু আজকে আমি আপনাদের শিখাব কিভাবে বিনামূল্যে টাকা ছাড়াই ডিভোর্স পেপার বা তালাকের নোটিশ পাঠানো যায়।
বিনামূল্যে তালাকের নোটিশ পাঠানোর নিয়ম এবং বাংলাদেশে তালাকের নোটিশ কিভাবে লিখতে হয় এবং তালাকের নোটিশ ডাউনলোড করার উপায় নিয়ে আজকের এই ভিডিও।
ফ্রিতে তালাকের নোটিশ পাঠানোর নিয়ম
তালাকের নোটিশ ডাউনলোড
নিজে নিজে তালাকের নোটিশ পাঠানোর সবচেয়ে বড় সমস্যা হল তালাকের নোটিশ এর ফরম্যাট ডাউনলোড কিভাবে করতে হয় সেটা না জানা। আজকে আমি আপনাদের তালাকের নোটিশ এর একটা ফরম দিয়ে দিচ্ছে যেখান থেকে তালাকের নোটিশ PDF ডাউনলোড করতে পারবেন।
বিনামূল্যে তালাকের নোটিশ ডাউনলোড করতে পেয়ে কেমন লাগল? ভিডিওতে বিস্তারিত দেখিয়েছি কিভাবে তালাকের নোটিশ লিখতে হয় এবং কিভাবে ফ্রিতে তালাকের নোটিশ পাঠাতে হয়, এই বিষয় গুলো আপনার কতটা কাজে লাগল জানাবেন অবশ্যই।
তবে তালাকের নোটিশ ফ্রিতে শুধু পাঠালেই চলবে না । কাজীর কাছে এডি অথবা ফেরত চিঠি নিয়ে যেয়ে তালাক রেজিষ্ট্রি করে নিয়ে তালাক নামা সংগ্রহ করে নিতে হবে। যদি আপনার কাছে তালাক নামা না থাকে তাহলে ভবিষ্যতে নানান রকম সমস্যায় পরতে পারেন। তাই তালাকের নোটিশ পাঠানোর পর নব্বই দিন পার হলে অবশ্যই অবশ্যই কাজী অফিসে যেয়ে আপনার এডি অথবা ফেরত চিঠি নিয়ে যেয়ে তালাক টা রেজিষ্ট্রেষন করে নিবেন।
লেখক :
হাসানুল হক মৃদুল
আইনজীবী, জজ কোর্ট নাটোর।



