বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় আইন বিষয়ক সাইটে আপনাকে স্বাগতম
White and Light blue colorful Graphic Library Book Return Classroom Announc 20250202 191206 0000

স্ত্রী পরকিয়া করে সন্তান জন্ম দিলে দায়িত্ব নিতে হবে স্বামীকে

ভারতের সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়: বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক থেকে জন্ম নেওয়া সন্তানের আইনগত পিতৃত্বের দায় স্বামীকেই নিতে হবে।

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি এক ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে, যেখানে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক থেকে জন্ম নেওয়া সন্তানের আইনি পিতৃত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে। কেরালা রাজ্যের একটি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, যদি কোনও নারী বৈধ বিবাহের সময় অন্য পুরুষের সঙ্গে সম্পর্কের ফলে সন্তান জন্ম দেন, তবে সেই সন্তানের আইনত বৈধ পিতা হবেন তাঁর স্বামী।

আদালতের যুক্তি ও নির্দেশনা

সুপ্রিম কোর্টের মতে, সন্তানের পরিচয় নিয়ে অযথা বিতর্ক ও জটিলতা এড়ানোর জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে, যদি কোনও স্বামী তার পিতৃত্ব অস্বীকার করতে চান, তাহলে তাঁকে প্রমাণ করতে হবে যে তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে কোনওরকম শারীরিক সম্পর্ক ছিল না। আদালত এই ‘নো-কন্টাক্ট’ বা ‘সম্পর্কহীনতা’র সংজ্ঞা নির্ধারণ করে দিয়েছে— যেখানে স্বামীকে দেখাতে হবে যে, বিবাহের সময়েও তাঁর স্ত্রী সঙ্গে তাঁর কোনও শারীরিক যোগাযোগ হয়নি।

মামলার পটভূমি

২০০১ সালে কেরালায় মিলান জোসেফ নামে এক শিশুর জন্ম হয়। তাঁর মা তখন রাজু কুরিয়ান নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন। পরে তাঁদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যায়। ২০০৭ সালে মিলান জোসেফের মা কোচিন পুরসভায় গিয়ে সন্তানের পিতার নাম পরিবর্তনের আবেদন করেন এবং দাবি করেন যে, ইভান রথিনাম নামের এক ব্যক্তি মিলানের জৈবিক পিতা (বায়োলজিক্যাল ফাদার)।

পুরসভা আদালতের অনুমতি ছাড়া নাম পরিবর্তনের আবেদন গ্রহণ করেনি। এরপর তিনি প্রথম অতিরিক্ত মুন্সিফ আদালতে মামলা করেন, যেখানে তিনি সন্তানের পিতা হিসেবে ইভান রথিনামের স্বীকৃতি দাবি করেন এবং খোরপোষের আবেদন জানান।

২০০৯ সালে আদালত তাঁর আবেদন নাকচ করে জানায়, যেহেতু সন্তানের জন্মের সময় তিনি আইনগতভাবে রাজু কুরিয়ানের স্ত্রী ছিলেন, তাই সন্তানের বৈধ পিতা কুরিয়ানই। পরবর্তী সময়ে সাব-জজ কোর্ট এবং কেরালা হাই কোর্টও এই রায় বহাল রাখে।

সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

২০১৫ সালে মামলাটি আলাপ্পুঝা ফ্যামিলি কোর্টে গড়ায়, যেখানে মিলান জোসেফের মা দাবি করেন যে সন্তানের দায়িত্ব ইভান রথিনামের নেওয়া উচিত, কারণ তিনিই জৈবিক পিতা। কিন্তু আদালত জানায়, পিতৃত্ব ও আইনি বৈধতা আলাদা বিষয়।

অবশেষে, সুপ্রিম কোর্ট ‘ভারতীয় প্রমাণ আইন, ১৮৭২’-এর ১১২ নম্বর ধারার ভিত্তিতে রায়