বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় আইন বিষয়ক সাইটে আপনাকে স্বাগতম
আদালতে ঘুষ
আদালতে ঘুষ

আদালতের কর্মচারীদের ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ

বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে আদালতের কর্মচারীদের ঘুষ নেওয়ার প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। কমিশনের অনলাইন জরিপে ৬৬ শতাংশ বিচারক মনে করেন, তাদের সহায়ক কর্মীরা ঘুষ চান। সাধারণ নাগরিক ও আইনজীবীরাও আদালতের কর্মীদের দুর্নীতির বিষয়ে মত দিয়েছেন।

প্রতিবেদনে বিচারাঙ্গনের দুর্নীতির সম্ভাব্য আটটি কারণ তুলে ধরা হয়েছে এবং প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে সুপারিশ করা হয়েছে।

জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, ১১,২২৫ জন সাধারণ নাগরিকের মধ্যে ৮৪.৯০ শতাংশ মনে করেন আদালতের কর্মচারীরা ঘুষ চান। আইনজীবীদের মধ্যে ২২৮ জন অংশগ্রহণকারীর মধ্যে ৯১.৭০ শতাংশ একই মত দিয়েছেন। ১৮৮ জন বিচারকের মধ্যে ৬৬ শতাংশ মনে করেন, কোর্ট সাপোর্ট স্টাফরা ঘুষ গ্রহণে লিপ্ত।

প্রতিবেদনে উল্লেখিত দুর্নীতির কারণগুলোর মধ্যে আছে:

১. বিচার সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীলতার অভাব। ২. মামলার কার্যতালিকা উন্মুক্ত না রাখা। ৩. তথ্য কেন্দ্রের অনুপস্থিতি। ৪. নৈতিক কর্মঘণ্টার যথাযথ ব্যবহার না করা। ৫. আদালতের বিভিন্ন দপ্তরের সিটিজেন চার্টার প্রদর্শন না করা। ৬. আইনজীবীদের স্বচ্ছতার বিষয়ে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের উদ্যোগের অভাব। ৭. রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের তদারকি ব্যবস্থায় ঘাটতি। ৮. বিচারক ও অফিস প্রধানদের কর্মচারীদের তদারকির অভাব। ৯. অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থার অভাব, যেমন অভিযোগ বক্সের অনুপস্থিতি। ১০. মামলার দীর্ঘসূত্রিতা এবং মামলা নিষ্পত্তিতে অতিরিক্ত সময় লাগা।

প্রতিবেদনে সুপ্রিম কোর্ট ও অধস্তন আদালতের দুর্নীতি প্রতিরোধে বিভিন্ন সুপারিশ করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের জন্য সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের মাধ্যমে অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তি করার কথা বলা হয়েছে। অধস্তন আদালতের জন্য জেলা ও জাতীয় পর্যায়ে পৃথক কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

বিচারকদের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে তিন বছর পরপর এবং অবসর নেওয়ার ছয় মাস আগে তাদের ও তাদের পরিবারের সম্পদের বিবরণ সংগ্রহের প্রস্তাব করা হয়েছে। সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের মাধ্যমে বিচারকদের আচরণ, দক্ষতা ও মামলা ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণের বিধান যুক্ত করার কথাও বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও সুপারিশ করা হয়েছে যে, আদালতের কার্যক্রমকে আরও ডিজিটালাইজ করা উচিত, যাতে মামলার তথ্য সহজেই পাওয়া যায় এবং দুর্নীতির সুযোগ কমে। বিচার সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের প্রশিক্ষণ এবং দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধির জন্য কর্মশালা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার কথাও বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনটি ৩৫২ পৃষ্ঠার, যেখানে ৩১টি অধ্যায়ে বিচার বিভাগ সংস্কারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, একটি কার্যকর এবং স্বচ্ছ বিচার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করতে হবে এবং দুর্নীতি রোধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

আমি প্রতিবেদনটি আরও বিস্তৃত করেছি এবং নতুন কিছু কারণ ও সুপারিশ সংযোজন করেছি। আপনি চাইলে আরও পরিবর্তন বা সংযোজন করতে পারেন।