এজাহার এবং FIR এক নয়! কে অনেকেই একই বিষয় ভাবলেও এজাহার এবং FIR মোটেই এক বিষয় নয়। আইনের চোখে এই দুটো সম্পূর্ণ ভিন্ন ভিন্ন বিষয়। দি কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিওর (CrPC) ১৮৯৮ এর ১৫৪ ধারা অনুযায়ী অপরাধের তথ্যকে বা Information কে মূলত প্রচলিত বাংলায় ‘এজাহার’ বলা হয়। পুলিশ রেগুলেশন অব বেঙ্গল (PRB) ১৯৪৩ তে এই ১৫৪ ধারার তথ্যকেই ‘প্রাথমিক তথ্য’ বা First Information বলা হয়েছে।
এজাহার দায়েরের পরে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দি কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিওর ১৮৯৮ এর ১৫৭ ধারা অনুযায়ী এজাহারের তথ্য অনুযায়ী একটা রিপোর্ট তৈরি করেন। এই রিপোর্টই এজাহারের রিপোর্ট বা প্রাথমিক তথ্য বিবরণী ফার্স্ট ইনফরমেশন রিপোর্ট (এফ আই আর)
তাই বলা যায় এজাহার আর FIR এক জিনিস নয়, কারণ একটা এজাহার এবং আরেকটা সেই এজাহারের রিপোর্ট। অবশ্য এজাহারকে তথ্য (information) বা প্রাথমিক তথ্য (FI) বলা যেতে পারে, তবে প্রাথমিক তথ্য বিবরণী (FIR) বলার কোন সুযোগ নেই।
এজাহার এবং FIR এর মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান রয়েছে। নিচে এজাহার এবং FIR এর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ন পার্থক্য তুলে ধরা হল-
১। এজাহারে অপরাধের ঘটনার বর্ণনা থাকে কিন্তু FIR এ পুরো ঘটনার বর্ণনা থাকে না, শুধু অপরাধের সংক্ষিপ্ত বিবরণ এবং নাম থাকে।
২। এজাহারে থানায় মামলা দায়েরের সময় এবং ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট প্রেরণের সময় উল্লেখ থাকে না। তবে FIR এ এই সময় উল্লেখ থাকে।
৩। এজাহারে অপরাধের ধারা ও আইন লিখা থাকে না। কিন্তু FIR এ অপরাধের ধারা ও আইন সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে।
৪। এজাহার ফৌঃ কাঃ বিঃ এর ১৫৪ ধারার আলোচনা করা হয়েছে এবং FIR ফৌঃ কাঃ বিঃ এর ১৫৭ ধারার বিষয়।
ফলে দি কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিওর (CRPC) ১৮৯৮ এর ১৫৬(৩) ধারার ক্ষমতাবলে আদালত তার নিকট পেশকৃত নালিশী দরখাস্ত এজাহার হিসেবে গণ্য করার আদেশ দিতে পারেন, কিন্তু FIR করার আদেশ দিতে পারেন না বা সেটা এখতিয়ার বহির্ভূত। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (OC) মূলত এজাহার দেখে FIR তৈরি করেন।



