বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় আইন বিষয়ক সাইটে আপনাকে স্বাগতম
সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬
সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬

কন্টেন্ট ক্রিয়েটর পরিচয়ে অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণে জেল-জরিমানা: সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬

‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ পরিচয়ে মোবাইল বা ক্যামেরায় অনুমতি ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তির ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেড়ে দিলে বা প্রচার করলে ৯০ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করে ২০২৬ সালের সাইবার সুরক্ষা আইনে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী জনাব ফকির মাহবুব আনাম।

গত মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে উত্থাপিত প্রশ্নোত্তর পর্বে লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য জানান।

১৩তম জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৮তম দিনে প্রশ্নোত্তর পর্বে লিখিত প্রশ্ন করেন নেত্রকোণা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম হিলালী। প্রশ্নটি গত ১৯/০৪/২০২৬ খ্রি: তারিখের জন্য নির্ধারিত ছিল। তবে গত মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সংসদে প্রশ্নটি উত্থাপন করা হয়।

লিখিত প্রশ্নে সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম হিলালী জিজ্ঞেস করেন, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি (তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ) মন্ত্রী অনুগ্রহ করে বলবেন কি, ‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ পরিচয়ে অনেকেই ক্যামেরা বা মোবাইল নিয়ে ঘুরে ঘুরে অনুমতি ছাড়াই যেকোন ব্যক্তির ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রসালো শিরোনামে প্রচার করছেন। অনেক ক্ষেত্রে হুমকি দিয়ে চাঁদাও দাবি করা হয়। এই প্রেক্ষিতে আপনার মন্ত্রণালয় কী ধরনের প্রতিরোধমূলক, আইনগত ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের দৃষ্টান্ত রোধে কী পরিকল্পনা রয়েছে?

জবাবে মাননীয় মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম লিখিতভাবে বলেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ কর্তৃক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬’ (গত ১০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে সংসদের বৈঠকে সাইবার সুরক্ষা বিল, ২০২৬ পাস হয়েছে) এর ২৫(১) ধারা অনুযায়ী ওয়েবসাইট বা অন্য কোনো ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক মাধ্যমে ইচ্ছাকৃতভাবে যৌন হয়রানি, ব্ল্যাকমেইলিং, রিভেঞ্জ পর্ন বা সেক্সটরশনের অভিপ্রায়ে, ভিডিও, তথ্য, চিত্র বা যেকোনো উপাদান প্রেরণ, প্রকাশ, প্রচার বা প্রচারের হুমকি প্রদান করলে, কিংবা ক্ষতিকর বা ভীতি প্রদর্শক আচরণ করাও একটি অপরাধ।

সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬ এ কি আছে?


উক্ত আইনের ২৫(২) ধারা অনুযায়ী অনধিক ২ বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। ২৫(৩) ধারা অনুযায়ী ভিকটিম নারী অথবা ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু হলে অনধিক ৫ বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। চাঁদা দাবির বিষয়টি ২২ (সাইবার স্পেসে প্রতারণা) ধারার আওতায় পড়বে, যেখানে অনধিক ৫ বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা গ্রহণ
‘সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬’ (গত ২০২৬ সালের ১০ এপ্রিল তারিখে সংসদের বৈঠকে সাইবার সুরক্ষা বিল, ২০২৬ পাস হয়েছে) এর ৮ ধারা অনুযায়ী জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির মহাপরিচালক ক্ষতিকর কন্টেন্ট অপসারণ অথবা Block করার ক্ষমতা রাখেন এবং BTRC কে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানাতে পারবেন। ৯ ধারা অনুযায়ী জাতীয় সাইবার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম এবং ন্যাশনাল সিকিউরিটি অপারেশন সেন্টার এই ধরনের অপরাধ শনাক্ত ও প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে পারবে।

৩৫ ধারা অনুযায়ী ওয়ারেন্ট/পরোয়ানা ব্যতিরেকেও জরুরি ক্ষেত্রে তল্লাশি, কম্পিউটার, কম্পিউটার সিস্টেম, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, তথ্য-উপাত্ত বা অন্যান্য সরঞ্জামাদি জব্দ এবং অপরাধীকে গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে এই নতুন আইনে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
ক) আইনি কাঠামো সুদৃঢ়করণ: আইনটির ৫ ও ৬ ধারা অনুযায়ী জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি গঠন করা হয়েছে, যেখানে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সার্টিফিকেটধারী বিশেষজ্ঞ নিয়োগ বাধ্যতামূলক। এই এজেন্সি বিনা অনুমতিতে ভিডিও ধারণ ও প্রচারজনিত অভিযোগ সেন্ট্রাল্ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। ক্রমান্বয়ে এই এজেন্সির লোকবল ও অবকাঠামো বৃদ্ধি করা হবে বলেও জানা যায়।

৮(৩ ও ৪) ধারা অনুযায়ী, যেকোনো ক্ষতিকর কন্টেন্ট Block বা Remove এর পর ৩ দিনের মধ্যে ট্রাইব্যুনালের অনুমতি নিতে হবে এবং স্বচ্ছতার স্বার্থে ব্লক করা সব কন্টেন্টের তথ্য জনসাধারনের নিকট প্রকাশ করার বিধান রাখা হয়েছে আইনটিতে।

প্রতিরোধ ব্যবস্থা
৯ ধারা অনুযায়ী কম্পিউটার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম ও জাতীয় সিকিউরিটি অপারেশন সেন্টার সাইবার স্পেসে ক্ষতিকর কন্টেন্ট Real Time শনাক্ত করতে Cloud ভিত্তিক সাইবার সিকিউরিটি সলিউশন ব্যবহার করবে।

৯(৫) (ঙ) ধারা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তথ্য ও লগ আদান-প্রদানের মাধ্যমে সীমান্ত পেরিয়ে পরিচালিত অপরাধও চিহ্নিত করা সম্ভব হবে বলে জানা যায়।

তদন্ত সক্ষমতা বৃদ্ধি
১০ ও ১১ ধারা অনুযায়ী এজেন্সির নিয়ন্ত্রণে Digital ফরেনসিক ল্যাব স্থাপন করা হবে, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করবে। ফলে ভিডিওর উৎস, ব্যক্তির পরিচয় ও ডিভাইস খুব দ্রুত শনাক্ত করা যাবে।
৩২ ধারা অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে হবে, যা দ্রুত বিচার নিশ্চিত করবে ধারনা করা হচ্ছে।

আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা
৪৮ ধারা অনুযায়ী দেশের বাইরে থেকে পরিচালিত এই ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহায়তা আইন, ২০১২ প্রয়োগ করে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে অপরাধী শনাক্ত ও বিচারের আওতায় আনা যাবে। ৪(২) ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশের বাইরে থেকে বাংলাদেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধে এই অপরাধ সংঘটিত হলেও এই একই আইন প্রযোজ্য হবে।

Event status
Not started