দলিল নিবন্ধন আইন সংশোধন কল্পে এবং দলিল রেজিষ্ট্রি ব্যবস্থাকে আধুনিক, সময়োপযোগী ও ডিজিটাল করতে নিবন্ধন আইন, ১৯০৮-এর অধিকতর সংশোধন করে দলিল নিবন্ধন অধ্যাদেশ, ২০২৬ জারি করেছে সরকার।
সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ গত বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। অধ্যাদেশটি খুব শীঘ্রই কার্যকর হবে বলে জানা যায়।
অধ্যাদেশটিতে উল্লেখ করা হয়, সংসদ ভেঙে যাওয়ায় এবং দেশে জরুরি পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে মহামান্য রাষ্ট্রপতি এ অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারি করেন।
দলিল রেজিষ্ট্রির সময়সীমা বৃদ্ধি
এই অধ্যাদেশ অনুযায়ী, নিবন্ধন আইন, ১৯০৮-এর ধারা ১৭ক-ছ, উপধারা (২)-এ উল্লিখিত দলিল রেজিষ্ট্রির সময়সীমা ৩০ দিনের পরিবর্তে ৬০ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ধারা ২৬-এর অনুচ্ছেদ (খ)-এ উল্লিখিত টাইম লিমিটেশন চার মাসের পরিবর্তে ছয় মাস করা হয়েছে।
হেবা ও দান নিবন্ধনের আওতা
আইনের ৫২ক ধারা সংশোধনের মাধ্যমে দলিল নিবন্ধনের আওতা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। বিক্রয়ের পাশাপাশি মুসলিম শরিয়াহ আইন (শরিয়ত) অনুযায়ী হেবা ঘোষণা, হিন্দু, খ্রিষ্টান ও বৌদ্ধ ব্যক্তিগত আইনের অধীনে দানের ঘোষণা রেজিষ্ট্রির অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ‘বিক্রেতা’ শব্দের সঙ্গে ‘অথবা দাতার’ শব্দ দুটি যুক্ত করা হয়েছে।
অনিয়মে কর্মকর্তার দায় নির্ধারণ
রেজিষ্ট্রেশন আইনের ৬৮ ধারা সংশোধন করে নতুন উপধারা (৩) সংযোজন করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, যদি কোনো নিবন্ধন কর্মকর্তা যথাযথ ফি, কর, সার্ভিস চার্জ বা ভ্যাট না নিয়ে দলিল নিবন্ধন করেন, তবে তা অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হবে এবং অনাদায়ী অর্থ ঐ কর্মকর্তার কাছ থেকে আদায় করা হবে।
আপিল ও আবেদনের নিষ্পত্তির সময়সীমা
এই অধ্যাদেশে ৭২ ধারা সংশোধন করে উপধারা (১ক) যুক্ত করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, আপিল দাখিলের তারিখ হইতে ৪৫ দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রার আপিল নিষ্পত্তি করবেন।
এ ছাড়া ৭৩ ধারা সংশোধন করে নতুন উপধারা (৩) সংযোজন করা হয়েছে, যার মাধ্যমে আবেদন দাখিলের তারিখ হইতে ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির বিধান রাখা হয়েছে।
ই-রেজিস্ট্রেশন চালু
অধ্যাদেশে নতুন অংশ দ্বাদশ(ক) যুক্ত করে ধারা ৭৭(ক) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকার অনুমোদিত ডিজিটাল সফটওয়্যার ব্যবহার করে দলিল উপস্থাপন, রেজিষ্ট্রির জন্য গ্রহণ করে ডিজিটাল পদ্ধতিতে দলিল রেজিষ্ট্রি করা যাবে। এ সংক্রান্ত বিধি সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপন জারি করার মাধ্যমে প্রণয়ন করবে।
ফি ও সার্ভিস চার্জ আদায়ের বিধান
রেজিষ্ট্রেশন অধ্যাদেশের ৮০ ধারা প্রতিস্থাপন করে বলা হয়েছে, দলিল উপস্থাপনের সময়ই সকল ফি, কর, সার্ভিস চার্জ ও ভ্যাট পরিশোধ করতে হবে। এসব অর্থ কিভাবে আদায় করা হবে এবং সার্ভিস চার্জ ব্যবহারের নিয়মকানুন সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপমের মাধ্যমে বিধি প্রণয়ন করবে।



